
কবিকে কেনো এ-তো ভয়!
হাসান জামান
কবিতা লিখে কি এমন হয়
কবিতা কি পাল্টাতে পারে সমাজ সংসার
কয়েকটি শব্দ বর্ণ অক্ষরে নড়ে ওঠে স্বৈরাচার
নাকি কিনতে পারে কলকারখানা ব্যাংক বীমা
অট্টালিকা শেখের ডিনার টেবিলে উটের কিমা
কবিতা কি পারে ফিরিয়ে দিতে প্রেয়সীর মুখ
যে উড়ে যায় হৃদয় ছুঁয়ে কাঙাল করে নন্দিত সুখ।
কবি কি পারে জ্বালিয়ে দিতে হত্যাকারী দেশ
ইজরাইলি মারনাস্ত্র বোমারু বিমান!
কবিতা কি পেটোয়া বাহিনী সজ্জিত সাঁজোয়া যান ?
কবিতা কি পারে নেতনেয়াহুকে দিতে অনন্ত ছুটি
অনাহারী মুখে তুলে দিতে এক টুকরো রুটি,
ফুটপাতে শুয়ে থাকা মাথায় রঙিন সামিয়ানা
কবি কি ফলাতে পারে শস্য ভরা মাঠ শস্যের দানা
স্বৈরাচারী শাসকের কবিকে তবে কেনোএতো ভয়!
কবিতো ঝড় ঝঞ্ঝা জলোচ্ছ্বাস নুহের প্লাবন নয়।
কবিরা সারাক্ষণ বড়ো বড়ো কথা বলে
বিপ্লবী সাঈদের মত পাতেনি বুক বন্দুকের নলে
ওরা কাঁচের চুরির মত স্বহস্তে ভাঙেনি দূঃশাসন
কবিদের স্পর্ধা এমন তো নয় রেখে আসে বোমা
হিটলারের বাসভবনে! কবিকে কেনো এতো ভয়
তবুও কবিকে জেলে নিতে হয় । রাজদণ্ড বুকে
দাঁড়ায় বিদ্রোহী নজরুল মৃত্যুর সমুখে!
আহার জোটে না শত সহস্র কবিদের –
কবিতা লিখে কি এমন হয়, দুঃখ নিবারনে!
কবিরা সুগিন্ধ ছড়ায় ধুপ আপনার মনে।
যে কবির শব্দবোমায় প্রকম্পিত হয় লক্ষ হৃদয়
কবিতা হয়ে উঠে রাজনীতি পরাজিত মানুষের ভাষা
দূর করে ভয় ভীতি আঁধার আনে আলোর পিপাসা
খুলে দেয় অন্ধ দুচোখ তরুণ প্রজন্ম ক্ষুধা
ঘুম ভেঙ্গে জিহাদ জিহাদ বলে জেগে উঠে সাহসী তরুন ছিঁড়ে ফেলে রাতের পর্দা!
ছুড়ে মারে জীবনকে নিজ হাতে মৃত উপত্যকায়!
কবিরা স্তাবক বংশীবাদক স্বৈরচারের নয়
কবিরাও চাঁদকে কাঁস্তে বানাতে পারে
আশাহীন বুকে জ্বালতে পারে আগুন
কবিদের কন্ঠে আছে বৃক্ষের গান রঙিন ফাগুন।
মানুষের জন্য স্বর্গীয় প্রেম বেঁচে থাকার বয়ান।
যদি বলো কবিতা লিখে কি এমন হয়
তবে কবি কে কেন এতো ভয় ?
কবিদের বয়ানে যুগে যুগে ফিরে আসে বিপ্লব
ফির আসে মেহনতি মানুষের প্রকৃত বিজয়।
Leave a Reply