
প্রিয় বাবা
হাসান জামান
দিনাজপুর
প্রিয় বাবা
তোমার সাথে কতদিন হয়নি দেখা
কেমন আছো তুমি কোন সুদূরে একা একা,
ক্ষমা করো ব্যস্ততায় সে কথা
হয়নি স্মরণ হয়নি ভাবা!
কতকাল দেখি নাই তোমার স্নেহমাখা
উজ্জল মুখ,
দেখি নাই সুনীল আকাশ সবুজ জমিনে
হেঁটে যাওয়া পূর্ণিমা চাঁদ,
শুনি নাই বাতাসে কন্ঠ তোমার, হাসান
ফিরে এসো ঘরে,
রাজনীতি রাজার তরে, যেয়োনা ওখানে,
নচেৎ আমারই মতোন পাবে
সীমাহীন দুখ।
অথচ
তুমি ছিলে আমার প্রথম হিরো
বিপ্লবী তিতুমীর সংগ্রামী মুখ।
আজ
আমি আছি দূর শহরে ছেলে মেয়ে সংসার
ব্যস্ততা নিয়ে, ম্যারাথন দৌড়ের উপর
তুমি আছো অজ পাড়াগাঁয়ে চোখের আড়ালে
কেমন আছো একা একা, কতদিন হয়নি ভাবা,
অথচ তুমিই আমার অতি প্রিয় বাবা।
মধ্যবিত্ত সংসারে তুমি ছিলে ভয় ডরহীন
বাউল নাবিক
তোমার স্নেহের সমুদ্রে কেটেছি সাঁতার
স্নেহময়ী মা প্রিয় ভাই বোন,
নুহের কিস্তিতে কাটিয়েছি একসাথে
সমস্ত ঝড় তু্ফান
উত্তাল সমুদ্রে হারাইনি দিক।
হঠাৎ দাঁড়ালো এসে একাত্তর মুক্তি যুদ্ধ
দুয়ারে রণাঙ্গন চতুর্দিক,
দাঙ্গার আগুনে নিঃস্ব বসত ভিটা
নিঃস্ব চাষীদের গ্রাম, পাড়া করে খাঁ খাঁ
ঝড়ের বেগে ছুটে আসে গৃহহীন
জেলে তাঁতী কৃষক সমাজ
তোমার কাছে,
ঘর বাড়ি প্রিয় জন সব হলো ফাঁকা!
তুমি ও মিশে গেলে দিশাহীন মানুষের দলে
মুক্তির মিছিলে রবের নামে ,
সব কিছু মনে পড়ে আজ।
মনে পড়ে রাতের আঁধারে, তুমি চলে গেলে
তোমার চোখে ছিল শ্রাবণের ধারা
আর অগ্নি স্ফুলিঙ্গ মিশে আগ্নেয়গিরি
পড়ন্ত যৌবন তবু তুমি ছিলে সম্মুখে
সেনাপতি নির্ভীক।
মৃত্যু কি কালো থাবা হাঙ্গরের মতো
হুট করে গিলে ফেলে গ্রাস,
আসলে মৃত্যু আলাদা কিছু নয় ,
যদিও মৃত্যুরে করি ভয়
মৃত্যুটা শুয়ে থাকে বুকের ভেতর
জীবনের সাথে
এ মহাসত্য লুকোনোর নয়।
প্রিয় বাবা তুমি চলে গেলে
সুবেহ সাদিকের আগে,পৃথিবীর আঙ্গিনা
ছেড়ে নক্ষত্রের দেশে ,
রাতের আকাশ হু হু করে উঠে
কে নেবে আমায় কাছে বুকে ভালোবেসে?
স্বাধীনতা মিছিল নিশান মুক্তিকামী
কৃষক সমাজ তোমার ছিল
খুব প্রিয়,
আজ দূর থেকে শোকার্ত সন্তান,
মজলুম মানুষের
ভালোবাসা শুভেচ্ছা ও অফুরান দোয়া
সালাম নিও।
Leave a Reply