
দুঃখের বৃষ্টিতে ভিজে
হাসান জামান
মানুষের হৃদয়ে সারাক্ষণ চেনা অচেনা
সুখ দুখ ঝড় বৃষ্টি হৃদয়ে উথলে উঠে
বুদবুদ ফেনা!
যতোবার ভুলে যেতে চাই তুমি কিংবা আমি
চেনা বিড়ালের মতো তবু সে বারবার ফিরে আসে
সাথে নিয়ে দঃখ বেদনা!
মন থেকে মুছে ফেলতে চাই দুখের সম্রাজ্য
ভুলে থাকতে চাই অপ্রিয় অতীত আজো তবু
ফিরে ফিরে আসে আগুনের পাখি
কাটা ছেঁড়া করে রক্তাক্ত ভবিষ্যৎ বর্তমানে
অবেহলার শিকড়ে বেড়ে ওঠি, নিঃস্ব প্রানে
ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস প্রোটোজোয়া
কি ভীষন দুখের ভেতর দিয়ে হেঁটে চলি
তবুও মানুষ পাখির মতন সারাক্ষণ উত্তাল
অতীতের কথা ভুলে সমুদ্রে তোলে পাল!
দুঃখের বৃষ্টিতে ভিজে
দীক্ষা নেয়ার ইচ্ছে নেই এ জমীনে কারো
পৃথিবীর ইচ্ছে নেই , পাখির ইচ্ছা নেই
আকাশের ইচ্ছা নেই এমনকি আমারও!
মুছে ফেলতে চাই যাতনার বেবাক স্মৃতি
স্মরণের কালি অবজ্ঞায় মনে
ঢালে বিষ যথারীতি।
হাজার বছর ধরে যে বেদনা আঘাত হানে বুকে
সে আঘাত কারিকে চাই চোখের সমুখে?
পৃথিবীর মানুষ কি চায়? দিন শেষে,
এ প্রশ্ন রেখেছি নন্দিত নরকের মালিকের কাছে
মানুষে মানুষে যুদ্ধ নাকি শান্তি- দেশে দেশে!
আমরা তো চাইনি অনাবশ্যক জ্ঞান,
আদার ব্যাপারী হয়ে রাখতে চাইনি জাহাজের খবর!
চাই নি অন্ধকারে গুম করে দিতে আমাদের মন
চাই নি নিজ হাতে রচনা করি নিজের কবর।!
আমাদের সমান্য চাওয়া প্রান খুলে কথাবলা
গান গাওয়া এক টুকরো রুটি অফুরন্ত ছুটি,
নির্ভয়ে পথ চলা।
বাবুই পাখির মতো শান্তির নীড়
রুপ যৌবনে ভরা প্রিয় মুখ প্রেয়শী নারী,
মায়ের মমতায় মাখা প্রেমময় বাড়ি।
ঘর জুড়ে পাখির মতন কিচির মিচির
এক গাদা পোলাপান। সবুজ ঘাসে সোনালী শিশির।
স্বপ্নের সিঁড়িতে বসে উল্লাসে ভরা পূর্ণিমা চাঁদ
প্রিয় শিশুদের কলরবে মুখরিত বেহেশতী গান।
বুদ্ধিজীবি গন বড়ো বিপদজনক চিজ!
মগজ কেটে শিরায় শিরায় ঢোকায় বিপ্লবী বীজ!
অনাবশ্যক দুঃখ দৈন্যের মাঝে ক্ষয়ে যায়
আমাদের জীবন যৌবন
শ্রমিক মজুরের রক্ত ঘামে গড়ে উঠে পৃথিবী নূতন
আমাদের দুখের নদীতে অমাবস্যা সাঁতার কাটে
বারবার হাঙরেরা করে যায় স্নান?
দুখের বোঝা বয়ে চলে পৃথিবীর বেবাক মানুষ
চতুষ্পদ গাধার মতই নির্বাক নিষ্প্রাণ!
Leave a Reply