
অলীক স্বপ্নে
হাসান জামান
আজকাল নিজেকে বড়ো অপরাধী মনে হয়!
যদি ও জল্লাদ শাজাহানের মত হাসতে হাসতে
ফাঁসির দড়িতে ঝুলাইনি কাউকে।
এসো স্বপ্না তোমাকে স্বর্গের বাগানে নিয়ে যাব
বলে কোন ষোড়শীর ভাঙিনি শাড়ীর ভাঁজ!
আমি পাহাড় চূড়ায় উঠে নতুন সূর্য দেখতে গিয়ে তার রক্তিম আলোয়
আমার নদী কে বিক্রি হতে দেখেছি।
দেখেছি স্বপ্নের দ্বীপ ইজারা দিতে হাঙ্গরের কাছে ।
যে দ্বীপের চারপাশ ঘিরে ছিলো নীল জলের ঢেউ!
একটি ছিমছাম নগরী।
শান্তি প্রিয় নগরীর সুন্দরী রমনীর উদ্দাম যৌবন।
সুঠাম দেহী যুবকের অসীম মাতৃ ঋণ।
যারা যুগে যুগে কবি সুকান্তের মন্ত্রে পাপের
জগদ্দল পাথর সরিয়ে নতুন দ্বীপটিকে বানিয়েছিল অনিন্দ্য সুন্দর লাল সবুজের পতাকায়।
এখন আমি দেশ বিক্রি কারী জগৎশেঠদের চিনি। । যারা হোটল রেডিসনে বসে আকাশ আর নক্ষত্র
কেনাবেচা করে।
কানাডার বেগম পাড়ায় চন্দ্রমুখির সাথে মজমা করে।
মুখোশধারী মীরজাফরের আলখেল্লার কালো
পকেটে ব্যাংক বীমা শেয়ার বাজার লুকিয়ে রাখে।
আমি উন্নয়নের জোয়ারে শত সহস্র নিরন্ন মানুষকে
দেখেছি ভেসে যেতে ।
কি করে সোনার দেশ তলা বিহীন ঝুড়ি হলো!
শ্মসান হলো বাংলার সবুজ শস্যের ক্ষেত
এ প্রশ্ন আমাকে করোনা!
লক্ষ শিক্ষিত তরুণ তরুণী ভাসমান কচুরিপানা
বাবার জমি বাড়ি বিক্রি করে যারা বিপন্ন করেছে
সুখের সংসার।
ওদের স্বপ্ন গুলো আজ ঋণে শৃংখলিত!
কারাদণ্ড প্রাপ্ত সকালের সূর্য সন্তানেরা।
বঞ্চিত মানুষের মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর ছায়ার মতোন!
রাজপথ রেলপথ সেতু ব্রিজ কালভার্ট চমৎকার লাস্যময়ী নদী বন্দরে উড়ছে ভীনদেশী পতাকা !
নদীর জল শুকিয়ে আজ বালুচরে বাদাম চাষ করে
খায় মৎস্য চাষি নগেন মাঝি
গাংচিল উড়ে গেছে দূরে!
নদীতে নৌকা নেই। নেই বাদাম তোলা নৌকা।
রুপোলী ইলিশের ঝাঁক উড়ে যায় গঙ্গায়!
আমার কবিতার দ্বীপ চুরি হয়ে গেছে ফেসবুকে।
যারা কিনেছে তাদের বেশ ভালো করে চিনি।
আমি কাউকে কিছুই বলিনি।
বিচারহীন আদালতে আমি কোন স্বাক্ষ্য দেইনি।
ঠুঁটো জগন্নাথের মতো দাঁতে দাঁত চেপে শীতে জুবুথুবু।
নেলদুপ দর্জি কিভাবে তার স্বাধীন সম্রাজ্য সিকিম কে
অন্যের কাছে ইজারা দিয়েছিল!
আমি কখনো প্রতিবাদ করিনি রক্তের
বিনিময়ে কেনা আমার স্বপ্নের দেশ চুরি হতে দেখে
আমার বোধ ক্রোধ দ্রোহ নির্বিকার ।
ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে অন্তহীণ অপেক্ষায়!
মাঝে মাঝে চমকে উঠি শহীদ আবরার
কিম্বা সাইদ এর আত্মদান দেখে!
যখন সবুজ বৃক্ষ গুলো ডানা ঝাপটায়
বাংলার পাখিরা আর্তনাদ করে উঠে!
আকাশ ফাটিয়ে প্রতিবাদ করে,
বন্দী শিবিরে তিতুমীরের কন্যারা
রক্তের নদীতে তুফান ছড়ায়
তখনো আমার বিবেক হয় না সরব।
এরপর ওরা আমাকে সাইবেরিয়ার স্বর্গে পাঠাবে।
অথবা নির্জন আন্দামানে!
আমি একজন মাছি মারা নির্বোধ কেরাণী।
যে কিনা দুটো লংকা ভাত খাওয়ার লোভে
অপরাধীর সাথে সখ্যতা গড়েছি।
আমার মাথায় পা রেখে যারা সিংহাসনে আসীন
হয়েছে।
তাদের পায়ের তলায় পোষা কুকুরের মতো
হাজার বছর বাঁচতে চেয়েছি।
সে কি নিকৃষ্ট জল্লাদ শাজাহানের চেয়ে অধম !
হায়রে তেলেপোকার জীবন। কবির কন্ঠে
টু শব্দ টি ও ধ্বনিত হলো না !
ঠোঁটে আজ মর্গের হিম শীতলতা।
সুদিনের অপেক্ষায় থাকি ফিনিক্স পাখির মতো
জেগে উঠার অলীক স্বপ্নে!
Leave a Reply