
তোমার প্রস্থানে ( বন্ধুবর কবি সাবিউল হকের স্মরণে)
হাসান জামান
এখন আর ইচ্ছে করে না
নিজেকে প্রমান করতে আমিও তোমাদের
সাথী ছিলাম।
হেঁটেছি অনেক পথ তোমার মতন
চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গিয়েছি দূর পাহাড়েে
কবিতার দেশে ভোরের কুয়াশা ছিঁড়ে
নতুন সকাল আনবো বলে,
প্রিয় কবি সাবিউল হক তোমার হাত ধরে।
হেঁটেছি তোমার সাথে কখনো অন্ধকারে
কখনো আলো ছায়া ঘেরা নতুন পৃথিবীতে।
বহুকাল ছিলাম স্বেচ্ছা নির্বাসনে
একাকী হাঁটবো বলে,
বিরহে কেঁদেছে তোমার অভিমানী চোখ,
আমাদের ছেড়ে কি করে গেলেন সরে জীবন সাগরে ?
অংগীকার গুলো কাঁদে সময়ের জলে ?
মানুষের মনে স্বপ্ন জাগানো কবিদের কাজ,
চাষীর মতো রোদ বৃষ্টিতে ভিজে গড়ে তোলে বিরান ভূমিতে সোনালী শস্যের সম্ভার।
কবিরা তেমনই স্বপ্নের ফেরিওয়ালা
ফেরি করে মানুষের ঠোঁটে ভাষা
ঝিনুকের বুক চিরে বের করে আনে
মুক্ত মানিক সুনীল স্বপ্ন একমুঠো আশা।
বাঁচিয়ে রাখে বুকের গহীনে সীমাহীন ভালোবাসা।
ফিরে এসো বলে তুমি চলে গেলে নক্ষত্রের দেশে!
“আমি জাগি,নাই জাগি। জেগে উঠবে প্রকৃতি নিঝুম”-
-আজও কেনো তবু পাখির ঠোঁটে ভোরের আর্তনাদ!
বিস্মিত ধলপহর! তোমার দুচোখে অন্তবিহীন ঘুম!
অদৃশ্য ইঙ্গিতে!
আমি বসে থাকি বিষন্ন মনে একা –
বুকে বেদনা নদী! যেতে যেতে পথে আপনার মনে
প্রিয় কবি উৎসর্গ করে গেছে “আশ্চর্য নতুন”-কাব্য
আমার নামে, কোথায় রাখি বলো এ আশ্চর্য উপহার! কি জবাব আছে আমার!
আমার তাই ইচ্ছে করে না কোনো পরীক্ষা দিতে।
চাইনা আর সূর্যের কাছে নতুন উষ্ণতা নিতে
শুধু জানি তুমি ছিলে আমার সহোদর।
যারা হেঁটে যায় বিশ্বাসীদের পথে তৌহিদী মিছিলে
অগ্রপথিক কবি ফররুখ আল মাহমুদের পথে সময়ের বিপরীতে।
আজ প্রার্থনা তুমি ভালো থেকো “আশ্চর্য নতুন”সেই অলৌকিক পৃথিবীতে।
Leave a Reply