মায়াময় ফিলিস্তিন
মহসিন আলম মুহিন
মধ্যে প্রাচ্যের দক্ষিণাঞ্চলের একটি ভূখন্ড,
ভূমধ্যসাগর ও জর্ডান নদীর মাঝে অবস্থিত-
যুগে যুগে অনেক দেশ, অনেক শাসক, এই দেশের মায়ায় পড়ে এর প্রতি ছিলো আবেগে আপ্লূত।।
মুসলমানদের বায়তুল হারাম ও মসজিদে নববীর মত মহব্বতের স্থান বায়তুল মুকাদ্দাস-( আল-আকসা), জেরুজালেম, ফিলিস্তিন-
মহানবীর মেরাজের ঘটনা, উর্ধ্বে গমন, মাসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসার ঘটনা ঈমানের রঙে রঙিন।।
এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের জন্য গুরুত্ব পূর্ণ আছে ফিলিস্তিনের এই ভৌগলিক অবস্থান,
এটি খ্রিষ্ট ধর্ম ও ইসলাম ধর্মের জন্মস্থান, ভৌগলিক অবস্থান ও দুটি প্রধান ধর্মের সূতিকাগার হওয়ায় ফিলিস্তিন অনেক মানুষ ও শাসকের কাছে প্রাণ।।
বহু নবী-রাসুলদের এই ভুমিতে হয়েছে আগমন ও জন্ম,
আবার অনেক নবী রাসুল আল্লহর হুকুমে হিজরত করে এসে দ্বীন প্রচারে সফল হয়েছেন, কেটেছে দাওয়াত ও তাদের সুন্দর লগ্ন।।
নবী ইব্রাহিম, নবী ইসমাইল, নবী ইসাহাক, নবী ইয়াকুব, নবী ইউসুফ, নবী দাউদ ও নবী সোলায়মান-(আঃ);-
বিবি মরিয়ম, নবী জাকারিয়া, নবী ইয়াহিয়া, নবী ঈসা, নবী মুসা, নবী লুত (আঃ) সহ অসংখ্য নবীগণ ও শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ ( সঃ) এর পদ চারনায় ধন্য হয়ে-পূণ্য ভুমি ফিলিস্তিনের মাটি হয়েছে পবিত্র এবং বেড়েছে তার মান-সম্মান।।
ফিলিস্তিনের আছে ঐতিহ্য, ধর্ম, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও ব্যবসায়িক এক আলোড়ন কারী ইতিহাস,
এখান অনেক ছাহাবী শাসক (রাঃ), মায়াময় শাসক ছিলেন আবার অনেক শাসক ছিলো গলার ফাঁস।।
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শাসক ফিলিস্তিন করেছেন শাসন,
আবার শাসকের বেশে এ অঞ্চলের মানুষকে অনেকে করেছেন শোষণ।।
আসলে-ইসরাইল, তেল-আবিব, নেগেভ ও তার পাশ্ববর্তী কিছু অংশ নিয়ে ইসরাইল রাষ্ট্র হলে,
আর অন্য দিকে, জেরুজালেম, রামাল্লা, পশ্চিম তীরের গাজা, রাফা, রামাল্লা এগুলো নিয়ে মুসলিম স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন হলে শান্তির পরিবেশ মেলে।।
কিন্তু ইহুদী গোষ্ঠী ও তার দোসররা ফিলিস্তিনকে দেয় না স্বাধীন,
তারা মুসলমানদের প্রতি অমানবিক নিষ্ঠুর নির্যাতন করে রাখতে চায় পরাধীন।।
চালায় তারা হত্যাকান্ড, আগ্রাসন, চালায় গণহত্যা, জুলুম নির্যাতন, শিশু হত্যা, নারী হত্যা, বৃদ্ধ হত্যা-চালায় নারী ধর্ষণ।।
ফিলিস্তিনের জনগণের রক্ত দেখে, মৃত্যু দেখে, শিশু দেখে, কাঁদে মানবতা, কাঁদে বিশ্ববাসী,
শুধু কিছু অমুসলিম দেশ ও ইহুদীদের প্রাণ কাঁদে না-তাদের মুখে হাসি।।
ইয়াসির আরাফাত, মাহমুদ আব্বাস, হামাস, সবাই ত্যাগে, ধৈর্যের রেখে চলেছেন এক আদর্শিক মহান নিদর্শন,
একদিন এ ত্যাগের মহিমায় ফিরে পাবে তারা স্বাধীন ফিলিস্তিন ভূখন্ড, পাবে স্বাধীনতা জনগণ।।
হে মহান প্রভু, তোমার করুণায় বাঁচিয়ে দাও মুসলমান ফিলিস্তিনের,
হেদায়েত দান করো অত্যাচারিদের, আর যদি নসীবে না থাকে হেদায়েত-ধ্বংস করে দাও তাদের।।