প্রিয় স্বজনের মুখ
হাসান জামাম
একদিন আমি ও তোমাদের সাথী ছিলাম,
শৈশব কৈশোরে পিঠাপিঠি পাখির মতন
উঠেছি বেড়ে দূর মফস্বলে অজপাড়া গ্রামে,
যেখানে মায়ের চাদরে ছিলো স্নেহের ধারা
প্রিয় গৃহকোন আঙিনা উঠোনে জোৎস্না নামে।
একই ছাতার নীচে উঠেছি বেড়ে,
একই স্বপ্ন বারান্দায় একই দেহ খামে।
হেঁটেছি সকলে হাতে হাত ধরে শিশির ঝরা মাসে
গেছি পাঠশালায় আঁকাবাঁকা আল পথেসবুজ ঘাসে
শীতের শিশিরে ভিজে ভোরের আলো ডানে বামে।
এখনো আষাঢ শ্রাবণে কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে
রাতের আকাশ সেই আত্মভোলা কিশোরের নামে।
ফেরার পিপাসা জাগে মনে প্রতিক্ষনে
বুকের ভেতর হু হু করে ওঠে স্বজনের মুখ
স্মৃতির অতলে ডুব দিয়ে খুঁজি ফেলে আসা দিন,
স্নেহ মাখা অসুখ বিসুখ।
আজ জানিনা কার শোকে চোখে নেই ঘুম
তবে কি ছিলাম অনাহুত অতিথি আমি
তোমাদের কাছে, প্রকৃতি নিঝুম!
রক্তের বন্ধন ভালোবাসা সব কিছু মিছে?
হঠাৎ কি করে জমা হলো আকাশের মেঘ
পৃথিবীর সব দুঃখ যন্ত্রণা ক্রোধ
তোমার বুকে একসাথে, উপেক্ষা আবেগ
রক্তে মাংসে কি করে গ্যালো এত ঘৃণা মিশে?
কি করে ফেরালে প্রিয় মুখ অবহেলা বিষে?
ভালোবাসা ফিরে দিলে ঘৃণার বোতলে,
এ দুখের মজলিস ছেড়ে ফিরে যাবো একদিন
তুমি ও আমি একই উঠোনে একই সমতলে।
জানিনা কি স্বপ্ন দেখি বিষন্ন মনে,
জানিনা কারে খুঁজি স্বপ্নীল রাতে,
ভুলে যেন না যাই প্রিয় স্বজনের মুখ
আগামী পৃথিবীর নতুন প্রভাতে।।