
প্রিয় কোনোদিন যদি আর না ফিরে আসি
যদি আর না হয় বলা প্রিয়তম ভালোবাসি
তোমার তাঁবুতে, শীতার্ত রাতে! মুখোমুখি বসে
দু'জনে যদি আর না গাই গান ! নক্ষত্র পড়ে খসে
করো না হা-হা-কার! নন্দিনী প্রিয় চাঁদ আমার
আর্তনাদে ফেলোনা ছিঁড়ে কালো হিজাব তোমার।
আমার তাজা গোলাপ সুবাস ছড়ানো সন্তান
তোমাদের খুব ভালোবাসি। ও আমার প্রাণ!
হয়তো এ জনমে কখনো আর হবে না দেখা
মৃত্যুর খবর যদি পাও তুমি হয়ে যাবে একা!
আমার সন্তানেরা ধুলি কণা হয়ে উড়বে বাতাসে
লু হাওয়ায় উড়বে সুনীল পাখি অসীম আকাশে!
যেমন নিশ্চিন্ন হয়েছে আমাদের পৃথিবী বাগান
ধ্বংসস্তূপে ডুবে গেছে নারী শিশু অজস্র প্রাণ
বহু কাল অপেক্ষায় বেঁচে আছি খড়কুটো ধরে
মানুষের ত্রান ছুৃড়ে ফেলা উচ্ছিষ্ট রুটি ভোগ করে
সম্রাজ্যবাদীদের মিথ্যা আশ্বাসে আগুনের শিখা
কাবার গিলাফ ধারীরা অন্ধ!ভুলেছে ঐশী লিখা!
রাজতন্ত্রের সরাই খানায় ওরা খোঁজে সুখ
বিশ্বাসীরাও অন্ধ আজ ফিরিয়ে নিয়েছে মুখ!
প্রিয়তমা তোমার চোখের অশ্রু ফেলো না
আমার অভুক্ত শিশুর প্রত্যয় কেড়ে নিওনা
নিশ্চয় ওদের প্রিয় বাবা একদিন ফিরবে ঘরে
সুগন্ধি রুটি থালা ভর্তি আংগুর দুই হাত ভরে!
যেদিন বৃক্ষ বলবে কথা পাখিরা তুলবে ধ্বনি
যেদিন পাথরে পাথরে ঘর্ষণ তুলবে প্রতিধ্বনি
দ্যাখো বানরেরা লুকিয়েছে মুখ গাছের ছায়ায়
খন্দকে পর্বত গুহায়! ওদের জানাও চীর বিদায়!
রবের কসম। শহীদের কাছে মৃত্যু তুচ্ছ অতি
আজ মেনে নাও সামান্য বিচ্ছেদ এই দূর্গতি!
প্রিয় যদি খবর পাও আমি নেই ফিরবো না আর
প্রার্থনা প্রত্যয় অপরিবর্তনীয়, চিরশাশ্বত -
শহীদেরা মৃত্যু হীন প্রাণ!ওদের নেই কিছু হারাবার।।