
সকাল সকাল চান্দের গাড়ী চড়ে পাহাড়ি রাস্তার ধার বেয়ে ছুটে চল্লাম বান্দরবান জেলা শহর থেকে দূরে টাইগারপাড়ার পাহাড়চূড়া নীলাচলে। যেতে সময় প্রায় ৪০ মিনিটের মতো। চান্দের গাড়ীর চালকে দক্ষতায় যাত্রা হয়ে উঠলো রোমাঞ্চকর। পাহাড়ের গা বেয়ে নিয়ে চল্লো নীলাচলে।
নীলাচল বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নীলাভুমির অনন্য উদাহরণ। নিজেকে উপলব্ধি করার, নতুন ভাবে আবিষ্কার করতে পাহাড়, নিসর্গের প্রেমে পড়ে হারিয়ে গেলাম অজানায়।আকাঁবাকা পথের সেতুবন্ধনে ক্ষণিকের আশ্রয়স্থলে।
সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় দুই হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়চূড়ায় বান্দরবান জেলা প্রশাসনের উদ্দ্যগে গড়ে তোলা হয়েছে এই আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। নীলাচল থেকে চার পাশে যত দূর চোখ যায় সমুদ্রের ঢেউ এর মত শুধু ছোট ছোট পাহাড় সবুজের মেলবন্ধন, ফাঁকে ফাঁকে পাহাড়ি বাড়ী চোখ জুড়িয়ে গেলো। দেখে মনে হলো সুনীল আকাশের সাথে নিবিড় সম্পর্ক জন্মজন্মান্তরের।
নীল আকাশ আর সাদা মেঘের খেলায় মেতে থাকে সবসময়, চোখবুঁজে প্রকৃতির ভালোবাসা নির্মল সরল আনন্দ উপভোগ করা অমৃত বলা চলে। আর বলে যায় কানে কানে কতো কিছু বলে যায়। চোখ খুলে অবাক নয়নে মনমুগ্ধকর দৃশ্য "আমাকে ডেকে বলে আয় কাছে থেকে যা আমার পাশে"। প্রকৃতির অফুরন্ত রূপ শুধু উজার করে বিলিয়ে দেয় অকৃত্রিম ভালোবাসা।
নীলাচল থেকে সমগ্র বান্দরবান শহর দেখে নিলাম স্থীর দৃষ্টি দিয়ে। চিম্বুক পাহাড় টা কে হাতের কাছেই মনে হলো।
আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে দূরের কক্সবাজারর সমুদ্র সৈকতের অপুর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। বর্ষা, শরৎ এবং হেমন্তে নীলাচলে হাতের কাছে ভেসে বেড়াই মেঘের ভেলা।
পাহাড়ের উঁচু নিচু আঁকাবাঁকা রাস্তা প্রকৃতি প্রেমিক ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের আকর্ষণ করে সবসময়। নীলাচলে গড়ে তুলা হয়েছে শুভ্রনীলা,‘ঝুলন্ত নীলা’, ‘নীহারিকা’ এবং ‘ভ্যালেন্টাইন পয়েন্ট’ নামে আমি /আমাদের মতো প্রকৃতি প্রেমিকদের জন্য।
আকর্ষনীয় বিশ্রামাগার দৃষ্টিনন্দন, পরিপাটি আভিজাত্যপূর্ণ । পাহাড়ের ঢালে ঢালে সুন্দর ভাবে সাজানো হয়েছে এ জায়গাগুলো।
ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে সামনের পাহাড়ের দৃশ্যও ভিন্ন ভিন্ন রকম। একটি থেকে আরেকটি একেবারেই আলাদা মনে গেঁথে রাখার মতো।
প্রকৃতি প্রেমি ভ্রমণপিপাসু মন যার আছে, তাকে একবার হলে পাহাড় আর মেঘের মিতালি দেখতে আসতেই হবে অপার সৌন্দর্যের কাছে। নীলাচল আমায় হতাশ করেনি, বিলিয়ে দিয়েছে অপার সৌন্দর্য।